রবিবার, ০৯ অগাস্ট ২০২৬, ২৫ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

পিয়ারাপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের ওপর হত্যাচেষ্টার ঘটনায় দুই আসামি গ্রেপ্তার, আদালতের আদেশে কারাগারে।

পিয়ারাপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের ওপর হত্যাচেষ্টার ঘটনায় দুই আসামি গ্রেপ্তার, আদালতের আদেশে কারাগারে।

নিজস্ব প্রতিবেদক, গাইবান্ধা: গাইবান্ধার পিয়ারাপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. রোস্তম আলী মন্ডলের ওপর সংঘবদ্ধ মব সৃষ্টি, হামলা ও হত্যাচেষ্টার অভিযোগে দায়ের করা মামলার দুই এজাহারভুক্ত আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে গাইবান্ধা সদর থানা পুলিশ। পরে তাদের আদালতে হাজির করা হলে আদালত জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে জেলহাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন বাপ্পি হোসেন (২২), পিতা—মো. রাজা মিয়া, সাং-দক্ষিণ হরিনসিংহা (রেলগেট বাজার), পিয়ারাপুর, বোয়ালী, গাইবান্ধা এবং মো. শহিদ মিয়া (২২), পিতা—মো. সবুর আলী, সাং-পিয়ারাপুর, বোয়ালী, গাইবান্ধা। তারা উভয়েই মামলার এজাহারভুক্ত আসামি।

মামলার অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে, গত ৩০ জুন ২০২৬ তারিখে পারিবারিক বিরোধকে কেন্দ্র করে পূর্বপরিকল্পিতভাবে উসকানি দিয়ে একদল যুবক পিয়ারাপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের অফিসকক্ষে প্রবেশ করে সংঘবদ্ধ মব সৃষ্টি করে। এ সময় তারা প্রধান শিক্ষককে হত্যার উদ্দেশ্যে হামলা চালায়, মারধর করে এবং প্রাণনাশের হুমকি প্রদান করে বলে অভিযোগ করা হয়েছে। হামলার ঘটনায় বিদ্যালয়ে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং স্বাভাবিক শিক্ষা কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়। খবর পেয়ে গাইবান্ধা সদর থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং প্রধান শিক্ষককে উদ্ধার করে।

ঘটনার পর প্রধান শিক্ষক গাইবান্ধার চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলা দায়ের করলে আদালতের নির্দেশে গাইবান্ধা সদর থানা মামলাটি রেকর্ড করে তদন্ত শুরু করে। মামলাটি বাংলাদেশ দণ্ডবিধি, ১৮৬০-এর ১৪৩, ৪৪৮, ৩২৩, ৩০৭ (হত্যাচেষ্টা), ৩৫৫, ৪২৭, ৫০৬(২) ও ৩৪ ধারায় রুজু করা হয়েছে।

তদন্তের ধারাবাহিকতায় গত রাতে অভিযান চালিয়ে মামলার দুই এজাহারভুক্ত আসামি বাপ্পি হোসেন ও শহিদ মিয়াকে গ্রেপ্তার করে গাইবান্ধা সদর থানা পুলিশ।

তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, গ্রেপ্তার হওয়া দুই যুবককে পরিকল্পিতভাবে ব্যবহার করা হয়েছে। ঘটনার নেপথ্যে পিয়ারাপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের কোনো সহকর্মী, স্থানীয় কোনো প্রভাবশালী ব্যক্তি বা কতিপয় দুর্বৃত্তের সম্পৃক্ততা রয়েছে কি না, তাও গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্ত কর্মকর্তাদের মতে, প্রয়োজন হলে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে ঘটনার মূল পরিকল্পনাকারী, উসকানিদাতা এবং সহযোগীদের বিষয়ে আরও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া যেতে পারে।

আজ গ্রেপ্তারকৃত দুই আসামিকে আদালতে সোপর্দ করা হলে আদালত তাদের জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে জেলহাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন। এদিকে, মামলার পলাতক অন্যান্য আসামিদের গ্রেপ্তারে গাইবান্ধা সদর থানা পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

পিয়ারাপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের ওপর হত্যাচেষ্টার ঘটনায় দুই আসামি গ্রেপ্তার, আদালতের আদেশে কারাগারে।

পিয়ারাপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের ওপর হত্যাচেষ্টার ঘটনায় দুই আসামি গ্রেপ্তার, আদালতের আদেশে কারাগারে।

প্রকাশের সময় : ০৩:৫৮:৩৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ৮ অগাস্ট ২০২৬

পিয়ারাপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের ওপর হত্যাচেষ্টার ঘটনায় দুই আসামি গ্রেপ্তার, আদালতের আদেশে কারাগারে।

নিজস্ব প্রতিবেদক, গাইবান্ধা: গাইবান্ধার পিয়ারাপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. রোস্তম আলী মন্ডলের ওপর সংঘবদ্ধ মব সৃষ্টি, হামলা ও হত্যাচেষ্টার অভিযোগে দায়ের করা মামলার দুই এজাহারভুক্ত আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে গাইবান্ধা সদর থানা পুলিশ। পরে তাদের আদালতে হাজির করা হলে আদালত জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে জেলহাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন বাপ্পি হোসেন (২২), পিতা—মো. রাজা মিয়া, সাং-দক্ষিণ হরিনসিংহা (রেলগেট বাজার), পিয়ারাপুর, বোয়ালী, গাইবান্ধা এবং মো. শহিদ মিয়া (২২), পিতা—মো. সবুর আলী, সাং-পিয়ারাপুর, বোয়ালী, গাইবান্ধা। তারা উভয়েই মামলার এজাহারভুক্ত আসামি।

মামলার অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে, গত ৩০ জুন ২০২৬ তারিখে পারিবারিক বিরোধকে কেন্দ্র করে পূর্বপরিকল্পিতভাবে উসকানি দিয়ে একদল যুবক পিয়ারাপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের অফিসকক্ষে প্রবেশ করে সংঘবদ্ধ মব সৃষ্টি করে। এ সময় তারা প্রধান শিক্ষককে হত্যার উদ্দেশ্যে হামলা চালায়, মারধর করে এবং প্রাণনাশের হুমকি প্রদান করে বলে অভিযোগ করা হয়েছে। হামলার ঘটনায় বিদ্যালয়ে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং স্বাভাবিক শিক্ষা কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়। খবর পেয়ে গাইবান্ধা সদর থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং প্রধান শিক্ষককে উদ্ধার করে।

ঘটনার পর প্রধান শিক্ষক গাইবান্ধার চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলা দায়ের করলে আদালতের নির্দেশে গাইবান্ধা সদর থানা মামলাটি রেকর্ড করে তদন্ত শুরু করে। মামলাটি বাংলাদেশ দণ্ডবিধি, ১৮৬০-এর ১৪৩, ৪৪৮, ৩২৩, ৩০৭ (হত্যাচেষ্টা), ৩৫৫, ৪২৭, ৫০৬(২) ও ৩৪ ধারায় রুজু করা হয়েছে।

তদন্তের ধারাবাহিকতায় গত রাতে অভিযান চালিয়ে মামলার দুই এজাহারভুক্ত আসামি বাপ্পি হোসেন ও শহিদ মিয়াকে গ্রেপ্তার করে গাইবান্ধা সদর থানা পুলিশ।

তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, গ্রেপ্তার হওয়া দুই যুবককে পরিকল্পিতভাবে ব্যবহার করা হয়েছে। ঘটনার নেপথ্যে পিয়ারাপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের কোনো সহকর্মী, স্থানীয় কোনো প্রভাবশালী ব্যক্তি বা কতিপয় দুর্বৃত্তের সম্পৃক্ততা রয়েছে কি না, তাও গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্ত কর্মকর্তাদের মতে, প্রয়োজন হলে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে ঘটনার মূল পরিকল্পনাকারী, উসকানিদাতা এবং সহযোগীদের বিষয়ে আরও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া যেতে পারে।

আজ গ্রেপ্তারকৃত দুই আসামিকে আদালতে সোপর্দ করা হলে আদালত তাদের জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে জেলহাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন। এদিকে, মামলার পলাতক অন্যান্য আসামিদের গ্রেপ্তারে গাইবান্ধা সদর থানা পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।