শুক্রবার, ১০ জুলাই ২০২৬, ২৬ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

প্রাথমিক ও মাধ্যমিকে শিক্ষকদের সম্মানি ধাপে ধাপে বাড়ানো হবে: প্রধানমন্ত্রী

  • অনলাইন ডেস্ক
  • প্রকাশের সময় : ০১:২০:০৮ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৯ জুলাই ২০২৬
  • ৯ বার পঠিত

সারাদেশে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষকদের সম্মানি পর্যায়ক্রমে বাড়ানো হবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, শিক্ষার মানোন্নয়নে শুধু অবকাঠামো নয়, দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তোলাই সরকারের মূল লক্ষ্য। এজন্য শিক্ষকদের প্রশিক্ষণের পাশাপাশি তাদের সম্মানিও বৃদ্ধি করা হবে।

বুধবার (৮ জুলাই) বিকেলে সংসদে কুমিল্লা-৪ আসনের সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহ-এর এক সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, স্বৈরাচার সরকারের সময়ে শুধু ভবন নির্মাণ করা হয়েছে, কিন্তু মানবসম্পদের উন্নয়নে তেমন গুরুত্ব দেওয়া হয়নি। তিনি বলেন, “আমরা যদি প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষকদের যথাযথ প্রশিক্ষণ এবং সেই সঙ্গে উপযুক্ত সম্মানি নিশ্চিত করতে না পারি, তাহলে তাদের কাছ থেকে কাঙ্ক্ষিত শিক্ষাসেবা পাওয়া কঠিন হবে।”

তিনি আরও জানান, সরকার প্রাথমিক ও মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষকদের জন্য ব্যাপক প্রশিক্ষণ কর্মসূচি হাতে নেওয়ার পরিকল্পনা করেছে। পাশাপাশি পর্যায়ক্রমে তাদের সম্মানি বৃদ্ধির উদ্যোগও বাস্তবায়ন করা হবে।

কেন শিক্ষকদের সম্মানি বাড়ানো প্রয়োজন, তা ব্যাখ্যা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, অনেক প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক সংসার চালানোর জন্য ক্লাস শেষ করে অন্য পেশা বা কৃষিকাজে যুক্ত হতে বাধ্য হন। একই ধরনের পরিস্থিতি অনেক মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকের ক্ষেত্রেও দেখা যায়। তিনি বলেন, শিক্ষকদের যেন দ্বিতীয় কোনো পেশায় যেতে না হয় এবং তারা পুরো সময় ও মেধা শিক্ষার্থীদের উন্নয়নে ব্যয় করতে পারেন, সে জন্য সম্মানি বৃদ্ধি জরুরি।

প্রধানমন্ত্রী আরও জানান, চলতি অর্থবছরের বাজেটে দেশের মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) ২ শতাংশ শিক্ষা খাতে বরাদ্দ রাখা হয়েছে।

এদিন বিকেল ৩টায় স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ-এর সভাপতিত্বে সংসদের অধিবেশন শুরু হয়। কার্যসূচির প্রথম ৩০ মিনিট ছিল প্রধানমন্ত্রীর প্রশ্নোত্তর পর্ব। এ সময় তিনি চারজন সংসদ সদস্যের তারকা চিহ্নিত প্রশ্ন এবং নয়জন সংসদ সদস্যের সম্পূরক প্রশ্নের জবাব দেন।

এছাড়া সংসদ সদস্য শাম্মী আখতার-এর এক সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী জানান, দেশের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রথম থেকে পঞ্চম শ্রেণির প্রায় ১ কোটি ২০ লাখ শিক্ষার্থীকে পর্যায়ক্রমে স্কুল ড্রেস ও স্কুল ব্যাগ দেওয়া হবে।

তিনি বলেন, দেশের প্রায় ৬৫ হাজার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সব শিক্ষার্থীকে এই কর্মসূচির আওতায় আনা হবে এবং পর্যায়ক্রমে দেশের প্রতিটি এলাকার শিশুদের কাছে এই সুবিধা পৌঁছে দেওয়া হবে।

জনপ্রিয়

প্রাথমিক ও মাধ্যমিকে শিক্ষকদের সম্মানি ধাপে ধাপে বাড়ানো হবে: প্রধানমন্ত্রী

প্রাথমিক ও মাধ্যমিকে শিক্ষকদের সম্মানি ধাপে ধাপে বাড়ানো হবে: প্রধানমন্ত্রী

প্রকাশের সময় : ০১:২০:০৮ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৯ জুলাই ২০২৬

সারাদেশে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষকদের সম্মানি পর্যায়ক্রমে বাড়ানো হবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, শিক্ষার মানোন্নয়নে শুধু অবকাঠামো নয়, দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তোলাই সরকারের মূল লক্ষ্য। এজন্য শিক্ষকদের প্রশিক্ষণের পাশাপাশি তাদের সম্মানিও বৃদ্ধি করা হবে।

বুধবার (৮ জুলাই) বিকেলে সংসদে কুমিল্লা-৪ আসনের সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহ-এর এক সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, স্বৈরাচার সরকারের সময়ে শুধু ভবন নির্মাণ করা হয়েছে, কিন্তু মানবসম্পদের উন্নয়নে তেমন গুরুত্ব দেওয়া হয়নি। তিনি বলেন, “আমরা যদি প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষকদের যথাযথ প্রশিক্ষণ এবং সেই সঙ্গে উপযুক্ত সম্মানি নিশ্চিত করতে না পারি, তাহলে তাদের কাছ থেকে কাঙ্ক্ষিত শিক্ষাসেবা পাওয়া কঠিন হবে।”

তিনি আরও জানান, সরকার প্রাথমিক ও মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষকদের জন্য ব্যাপক প্রশিক্ষণ কর্মসূচি হাতে নেওয়ার পরিকল্পনা করেছে। পাশাপাশি পর্যায়ক্রমে তাদের সম্মানি বৃদ্ধির উদ্যোগও বাস্তবায়ন করা হবে।

কেন শিক্ষকদের সম্মানি বাড়ানো প্রয়োজন, তা ব্যাখ্যা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, অনেক প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক সংসার চালানোর জন্য ক্লাস শেষ করে অন্য পেশা বা কৃষিকাজে যুক্ত হতে বাধ্য হন। একই ধরনের পরিস্থিতি অনেক মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকের ক্ষেত্রেও দেখা যায়। তিনি বলেন, শিক্ষকদের যেন দ্বিতীয় কোনো পেশায় যেতে না হয় এবং তারা পুরো সময় ও মেধা শিক্ষার্থীদের উন্নয়নে ব্যয় করতে পারেন, সে জন্য সম্মানি বৃদ্ধি জরুরি।

প্রধানমন্ত্রী আরও জানান, চলতি অর্থবছরের বাজেটে দেশের মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) ২ শতাংশ শিক্ষা খাতে বরাদ্দ রাখা হয়েছে।

এদিন বিকেল ৩টায় স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ-এর সভাপতিত্বে সংসদের অধিবেশন শুরু হয়। কার্যসূচির প্রথম ৩০ মিনিট ছিল প্রধানমন্ত্রীর প্রশ্নোত্তর পর্ব। এ সময় তিনি চারজন সংসদ সদস্যের তারকা চিহ্নিত প্রশ্ন এবং নয়জন সংসদ সদস্যের সম্পূরক প্রশ্নের জবাব দেন।

এছাড়া সংসদ সদস্য শাম্মী আখতার-এর এক সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী জানান, দেশের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রথম থেকে পঞ্চম শ্রেণির প্রায় ১ কোটি ২০ লাখ শিক্ষার্থীকে পর্যায়ক্রমে স্কুল ড্রেস ও স্কুল ব্যাগ দেওয়া হবে।

তিনি বলেন, দেশের প্রায় ৬৫ হাজার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সব শিক্ষার্থীকে এই কর্মসূচির আওতায় আনা হবে এবং পর্যায়ক্রমে দেশের প্রতিটি এলাকার শিশুদের কাছে এই সুবিধা পৌঁছে দেওয়া হবে।