মঙ্গলবার, ০৭ জুলাই ২০২৬, ২২ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

স্ত্রীকে হত্যা করে মাটিচাপা, ২০ দিন পর অর্ধগলিত লাশ উদ্ধার

মৌলভীবাজার প্রতিনিধি: মৌলভীবাজারের রাজনগরে স্বামীর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে প্রায় ২০ দিন ধরে নিখোঁজ থাকা এক গৃহবধূর মাটিচাপা দেওয়া অর্ধগলিত লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় নিহতের স্বামীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

সোমবার (৬ জুলাই) উপজেলার মুন্সীবাজার ইউনিয়নের করিমপুর গ্রাম থেকে নিহত গৃহবধূ জায়েদা বেগমের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। তিনি উপজেলার মুন্সীবাজার ইউনিয়নের সোনাটেকি গ্রামের হান্নান মিয়ার মেয়ে। বিয়ের পর স্বামী আলমঙ্গীর হুসেনের সঙ্গে করিমপুর গ্রামে বসবাস করতেন।

রাজনগর থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) প্রদ্যুত রায় জানান, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আলমঙ্গীর হুসেন স্ত্রীকে হত্যার কথা স্বীকার করেছেন। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে করিমপুর গ্রামের একটি স্থান থেকে মাটিচাপা দেওয়া অবস্থায় অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রায় তিন সপ্তাহ ধরে জায়েদা বেগম নিখোঁজ থাকায় তার স্বজনরা আলমঙ্গীর হুসেনের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। তিনি তাদের জানান, জায়েদা বিদেশে চলে গেছেন। তবে এ দাবির পক্ষে কোনো তথ্য-প্রমাণ দিতে না পারায় পরিবারের সদস্যদের সন্দেহ হয়। পরে তারা রাজনগর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন এবং বিষয়টি স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের অবহিত করেন।

তদন্তের একপর্যায়ে পুলিশ আলমঙ্গীর হুসেনকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করলে তিনি স্ত্রীকে হত্যার পর মরদেহ মাটিচাপা দেওয়ার কথা জানান এবং লাশের অবস্থান দেখিয়ে দেন। এরপর সোমবার দুপুরে পুলিশ অভিযান চালিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে।

মুন্সীবাজার ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য বেলাল আহমদ ও রুহুল আমীন জানান, আলমঙ্গীর এলাকায় প্রচার করেছিলেন যে তার স্ত্রী বিদেশে চলে গেছেন। কিন্তু এ বিষয়ে কোনো প্রমাণ দিতে না পারায় তার আচরণ সন্দেহজনক মনে হয়। পরে বিষয়টি পুলিশকে জানানো হয়।

রাজনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফরিদ উদ্দিন আহমদ ভূঁইয়া বলেন, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আলমঙ্গীর হুসেন মরদেহ মাটিচাপা দেওয়ার স্থান দেখিয়ে দিয়েছেন। তিনি আরও কয়েকজনের সম্পৃক্ততার কথাও জানিয়েছেন। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে।

পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মৌলভীবাজার সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠিয়েছে। হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ এবং অন্য কারও সম্পৃক্ততা রয়েছে কি না, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।

জনপ্রিয়

আবারও নতুন গান নিয়ে ফিরছেন কিংবদন্তি শিল্পী সাবিনা ইয়াসমিন

স্ত্রীকে হত্যা করে মাটিচাপা, ২০ দিন পর অর্ধগলিত লাশ উদ্ধার

প্রকাশের সময় : ১১:২৬:০৪ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৬ জুলাই ২০২৬

মৌলভীবাজার প্রতিনিধি: মৌলভীবাজারের রাজনগরে স্বামীর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে প্রায় ২০ দিন ধরে নিখোঁজ থাকা এক গৃহবধূর মাটিচাপা দেওয়া অর্ধগলিত লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় নিহতের স্বামীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

সোমবার (৬ জুলাই) উপজেলার মুন্সীবাজার ইউনিয়নের করিমপুর গ্রাম থেকে নিহত গৃহবধূ জায়েদা বেগমের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। তিনি উপজেলার মুন্সীবাজার ইউনিয়নের সোনাটেকি গ্রামের হান্নান মিয়ার মেয়ে। বিয়ের পর স্বামী আলমঙ্গীর হুসেনের সঙ্গে করিমপুর গ্রামে বসবাস করতেন।

রাজনগর থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) প্রদ্যুত রায় জানান, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আলমঙ্গীর হুসেন স্ত্রীকে হত্যার কথা স্বীকার করেছেন। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে করিমপুর গ্রামের একটি স্থান থেকে মাটিচাপা দেওয়া অবস্থায় অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রায় তিন সপ্তাহ ধরে জায়েদা বেগম নিখোঁজ থাকায় তার স্বজনরা আলমঙ্গীর হুসেনের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। তিনি তাদের জানান, জায়েদা বিদেশে চলে গেছেন। তবে এ দাবির পক্ষে কোনো তথ্য-প্রমাণ দিতে না পারায় পরিবারের সদস্যদের সন্দেহ হয়। পরে তারা রাজনগর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন এবং বিষয়টি স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের অবহিত করেন।

তদন্তের একপর্যায়ে পুলিশ আলমঙ্গীর হুসেনকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করলে তিনি স্ত্রীকে হত্যার পর মরদেহ মাটিচাপা দেওয়ার কথা জানান এবং লাশের অবস্থান দেখিয়ে দেন। এরপর সোমবার দুপুরে পুলিশ অভিযান চালিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে।

মুন্সীবাজার ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য বেলাল আহমদ ও রুহুল আমীন জানান, আলমঙ্গীর এলাকায় প্রচার করেছিলেন যে তার স্ত্রী বিদেশে চলে গেছেন। কিন্তু এ বিষয়ে কোনো প্রমাণ দিতে না পারায় তার আচরণ সন্দেহজনক মনে হয়। পরে বিষয়টি পুলিশকে জানানো হয়।

রাজনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফরিদ উদ্দিন আহমদ ভূঁইয়া বলেন, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আলমঙ্গীর হুসেন মরদেহ মাটিচাপা দেওয়ার স্থান দেখিয়ে দিয়েছেন। তিনি আরও কয়েকজনের সম্পৃক্ততার কথাও জানিয়েছেন। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে।

পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মৌলভীবাজার সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠিয়েছে। হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ এবং অন্য কারও সম্পৃক্ততা রয়েছে কি না, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।